প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত..

বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জনাব দেলোয়ার হোসেন। এই বিদ্যালয়টি প্রথমে প্রাইমারী স্কুল অর্থাৎ তৎকালীন সময়ে বোর্ড স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

            প্রাইমারী স্কুল হিসেবে স্কুলটির যাত্রা শুরু সম্ভবত ১৯৬১ সালে। পরে ১৯৬৬ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। তখন বিদ্যালয়ের নাম ছিল বাগেরহাট আমলাপাড়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়।

            প্রথমে বিদ্যালয়টি ছিল টিনসেড। চারপাশে বাঁশ ও কাঠের বেড়া সম্পূর্ন ঢাকা নয় কিছু অংশ খোলা এবং মেঝে মাটির। তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী জনাব আমজাদ হোসেনকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করানের জন্য আনা হয়। তিনি পরিদর্শন করে সন্তুষ্টচিত্তে বিদ্যালয়টি উন্নতির জন্য কিছু অনুদান প্রদান করেন। তারপর বিদ্যালয়টির অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়।

           

            বৃটিশ আমলে ১৯৩৫ সালের বিধি মতে বাগেরহাট ইউনিয়ন বোর্ড কতৃর্ক নিয়ন্ত্রিত হত শহর ও পার্শবর্তী গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয়। বর্তমানের বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সেখানে বোর্ড স্কুলরুপে পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং পূর্বে যার নাম ছিল বাগেরহাট আমলাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।

            আত্মপরিচয় আর স্বাধীকারের দাবীতে উত্তাল ৬০ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে ০১/০১/১৯৬৬ ইং তারিখে  স্থানীয় জনগনের সহায়তায় জনাব দেলোয়ার হোসেন (তৎকালীন প্রধান শিক্ষক) তাঁর নেতৃত্বে বাগেরহাট আমলাপাড়া নিম্নমাধ্যমিক ও ১৯৬৭ সালে সেই প্রচেষ্টার ধারবাহিকতায় বাগেরহাট আমলাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবতীর্তে বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামকরণ করা হয়। ১৯৬৭ সালে উচ্চ বিদ্যালয় রুপান্তরিত হওয়ার পর বিভিন্ন স্কুল থেকে ছাত্র—ছাত্রী সংগ্রহ করে ১৯৬৮ ইং সালে প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ ইং সালে যারা এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে তারা এ প্রতিষ্ঠানের ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির মূল শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য শিক্ষার্থী বাবুল, নজরুল, মানস, আফিয়া, কামরুন, সেকেন্দার, বুলবুল, হাছিনা।

           

            বিদ্যালয়টিতে যাদের অবদান রয়েছে : শেখ আব্দুল মালেক— আইনজীবি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, ডা: মোজাম্মেল, তসু মিয়া, লতিফ উকিল, মোসলেম ডাক্তার, জাহানারা খাতুন (প্রাক্তন শিক্ষক, বাগেরহাট সরকারী বালিকা বিদ্যালয়) যিনি তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির দুই শতক জমি দান করেন।

            তখন বিদ্যালয়টিতে যারা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন : সালেহা বেগম, মনিরুজ্জামান, অমূল্য, প্রফুল্ল কুমার সেন, নারায়ণ, অধর, মহিউদ্দিন, আশরাফ,আব্দুল হামিদ, দেবদাস সমাদ্দার, শ্রী জ্ঞানেন্দ্রোনাথ দত্ত, শ্রী ফনি ভূষন দাস, —সবিতা, ঝর্ণা, শামিমা, গোলাম মর্তুজা, বজলুল করিম, আরশাদ আলী মোল্লা, দুলাল কুমার ঘোষ, শ্রী দেবাশিষ বিশ্বাস।

           

তখন বিদ্যালয়টিতে যারা কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন : আব্দুল সত্তার —কলাবাড়ীয়া,

           

প্রথম এস.এস.সি পরীক্ষার্থী —

প্রাথমিক বৃত্তি:

            প্রথম বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী—  শামছুল আলম—১৯৬২

                                                হালিমা খাতুন—

                                                গোপাল কৃষ্ণ সমাদ্দার—

                                                মনিরুজ্জামান—১৯৬৩

                                                সালেহা খাতুন—

                                                খোন্দকার মঈনুল ইসলাম—

                                                মনিরা বেগম

                                                আমিরুল হক

                                                ফয়জুল কিবরিয়া

                                                সবুরা খাতুন

                                                বাসন্তি রানী গুহ —১৯৬৪

                                                সোহায়েব আহমেদ আবেদী

                                                অনিন্দ্য সুন্দর আইচ

                                                হাফিজুর রহমান—১৯৬৫

                                                সেকেন্দার আলী

                                                মানস কুমার সরকার

                                                সুনিল কুমার দে —১৯৬৬

                                                রফিকুল আলম

                                                স্বপন কুমার চক্রবর্তী —১৬৬৭

                                                দীপক কুমার সাহা —১৯৬৮

                                                জ্যোতিষ্ময় দেবনাথ১৯৬৯

                                                দীপক কুমার বিশ্বাস—১৯৭০

                                                নাঈমা ফেরদৌসী

                                                মো: আব্দুস সামাদ

                                                শহীদুল ইসলাম

                                                কাজী সাহিন—১৯৭১ থেকে ধারাবাহিক ভাবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান।

                        জুনিয়র বৃত্তি:

                                                খন্দকার মঈনুল ইসলাম—

                                                ফয়জুল কিবরিয়া—১৯৬৭

                                                অনিন্দ্য সুন্দর আইচ

                                                সোহায়েব আহমেদ আবেদী—১৯৬৮

                                                মানস কুমার সরকার

                                                সেকেন্দার আলী—১৯৬৯

                                                স্বপন কুমার চক্রবর্তী

রফিকুল আলম—১৯৭০

এস.এম.গোলাম মোস্তফা —১৯৭১

দীপক কুমার বিশ্বাস—১৯৭৩

নাঈমা ফেরদৌসী

আব্দুস সামাদ—১৯৭৪

কল্যাণ কিশোর দেবনাথ

মাকছুদা খানম

সিরাজুল ইসলাম

ওবায়দুল হক

জান্নাতুল ইসলাম—১৯৭৫

মিজানুর রহমান

আবুল কালাম—১৯৭৬

শেখ জাহিদুজ্জামান স্বপন—১৯৭৭

মাহবুব খলিল টিপু—১৯৭৮

নুরুল হক

কামরুজ্জামান চৌধূরী—১৯৭৯

মাহবুবুর রহমান

নাছিমা ফেরদৌসী—১৯৮০ থেকে বর্তমান

           

            স্টান্ড করা শিক্ষার্থী— এছহাক আলী  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭২ ৬ষ্ঠ তম

                                      শাহদাত হোসেন  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭২ ৬ষ্ঠ তম

                                      এস.এম গোলাম মোস্তফা  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭৪ ৭ষ্ঠ তম

                                                শহীদুল ইসলাম  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭৬ ২য় তম

                                                নাছিমা ফেরদৌসী  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৮৩ ৩য় তম (বালিকা)

                                                বিষ্ণুপদ সেন বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৮৩ ৭ম তম

            অশোক কুমার সমাদ্দার  বিজ্ঞান  বোর্ড স্টান্ড—১৯৮৮ ১৫ তম

            কৃতি শিক্ষার্থী (স্বর্ন পদক)— মেরিনা বেগম— দীর্ঘ লাফ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৭৪

                                                       মেরিনা বেগম— দীর্ঘ লাফ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৭৫

শায়লা নাসির কেয়া— কবিতা আবৃতি দ্বিতীয় স্থান ১৯৮৪

আয়শা সিদ্দিকা মানি— ছবি অংকন স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৮০

মঈনুল করিব— মুষ্টি যুদ্ধ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৭৯

পিযুষ কান্তি মন্ডল— বাটার মুষ্টি যুদ্ধ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৮৫

মাহফুজুর রহমান মুরাদ— সাঁতার  স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৮৫

            শিক্ষা, ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি জাতীয় প্রতিযোগীতায়, বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ স্থান অধিকার করে এ বিদ্যালয়টি বাগেরহাট জেলায় গৌরব বৃদ্ধি করেছে তারই স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভে সক্ষম হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জনাব দেলোয়ার হোসেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।